হাসান তারেক মুকিম, রামু

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজারে মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানোর বিষয়ে জেলা প্রশাসনের একাধিক নির্দেশনা ও সভা-সেমিনারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। বরং অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পক্ষের সামনেই মহাসড়কের ওপর পশুর হাট বসিয়ে হাসিল আদায় করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রামু উপজেলা প্রশাসন খাস কালেকশনের মাধ্যমে কলঘর বাজার পশুর হাটে হাসিল আদায় করছে। হাটটি রামু-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে বসানো হয়েছে। সেখানে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাসিল উত্তোলনে সক্রিয় দেখা গেছে। এমনকি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাজার তদারকিতেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন নিজেরাই নিজেদের নির্দেশনা উপেক্ষা করছে।

এর ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার-রামু মহাসড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইতোমধ্যে গরু-ছাগলের হাট বসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মহাসড়কের একেবারে পাশ ঘেঁষে পশু নামানো, ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় এবং যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে যানজট কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি আয়োজিত একাধিক সমন্বয় সভায় মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানো যাবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সভায় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনদুর্ভোগ কমানো এবং বিকল্প স্থানে হাট স্থানান্তরের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন না থাকায় প্রশাসনের তদারকি ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। রাজনৈতিক প্রভাব, ইজারাদারদের চাপ কিংবা সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় মহাসড়কের পাশেই হাট বসে যায়। ফলে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে এমনিতেই সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ে। তার ওপর মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এতে শুধু যাত্রীসেবাই ব্যাহত হচ্ছে না, বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে একের পর এক সভা-সমাবেশ আয়োজনের পরও যদি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা কোথায়? প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে কার্যকর না হলে তা জনমনে প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করে মহাসড়কের পাশ থেকে পশুর হাট সরিয়ে নিরাপদ ও নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।